মুন টাইমস নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনিক্লোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনিক্লোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জাপানের শীর্ষস্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পে বৈচিত্র্য আনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।বৈঠকে বাংলাদেশে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং দেশের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির আস্থার বিষয়টি উঠে আসে। এ সময় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে ম্যান-মেড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তু, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যে উদ্ভাবন এবং উন্নত উৎপাদনপ্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিনিয়োগের জন্য জমির ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চুক্তিটি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে।বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।জাপানের পক্ষে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই বৈঠকে অংশ নেন।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ সমাপ্ত

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ সমাপ্ত

ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দশম স্থলবাহিনী সংলাপ সমাপ্ত হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেই এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।বৈঠক শুরুর আগে গত ২৬ অক্টোবর সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান দেশটির প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডেরনা স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড প্ল্যানস বিষয়ক ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল মেজর জেনারেল জাইলস জে. এস. কর্ণেলিয়া সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে, যার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান। এই আলোচনা পর্বে উভয় পক্ষ সামরিক সহযোগিতা জোরদার, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।এসময় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়।

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া-মোনাজাত, রক্তদান, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, আলোচনাসভা, র‌্যালি ও সমাবেশ। এ ছাড়া দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পালন করবেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম দিন আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং দোয়া-মোনাজাত করা হবে।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।কর্মসূচিতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।একই দিন দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় রক্তদান কর্মসূচি ও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হবে।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে আলোচনাসভা, র‌্যালি, সমাবেশ, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো নিজেদের নির্ধারিত সময়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।ঘোষিত কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ২৮ অক্টোবর উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও অধস্তন ইউনিটগুলো নিজ নিজ সুবিধাজনক সময়ে এসব কর্মসূচি পালন করবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

দেশীয় চলচ্চিত্রের সংকট কাটবে কীভাবে, সেমিনারে উঠে এল যেসব সমাধান

দেশীয় চলচ্চিত্রের সংকট কাটবে কীভাবে, সেমিনারে উঠে এল যেসব সমাধান

দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে ধুঁকছে দেশের চলচ্চিত্রশিল্প। প্রেক্ষাগৃহের সংকট, দুর্বল চিত্রনাট্য, বিনিয়োগের ঘাটতি, সুষ্ঠু বাণিজ্যিক পরিকল্পনার অভাব—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে এই শিল্প। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে নীতিমালা সংস্কার, নতুন আয়ের উৎস তৈরি, আধুনিক স্টুডিও নির্মাণ এবং চলচ্চিত্রের সঙ্গে করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার মতো নানা প্রস্তাব দিয়েছেন নির্মাতা, প্রযোজক, পরিবেশক ও প্রদর্শক সমিতির নেতাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আমাদের চলচ্চিত্রে সংকট, করণীয় ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেলাল খান। সভাপতিত্ব করেন পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন। আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন কবির টুটুল, উপমহাসচিব কবিরুল ইসলাম রানাসহ বরেণ্য নির্মাতা কাজী হায়াৎ, ছটকু আহমেদ, শাহ আলম কিরণ, হাবিবুল ইসলাম হাবীব ও সাইমন তারিক।দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা সেমিনারে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য দেন। তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে চলচ্চিত্রের প্রযোজনা, পরিবেশনা, প্রদর্শন, সরকারি সহায়তা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রস্তাব। বক্তারা মনে করেন, সংকট কাটাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর নীতিমালা ও নতুন আয়ের পথ খুঁজে বের করা।স্বাগত বক্তব্যে পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন কবির টুটুল বলেন, দেশের বেসরকারি ব্র্যান্ডগুলোকে কীভাবে চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে শাহীন সুমন মালয়ালম চলচ্চিত্রশিল্পের উদাহরণ টেনে বলেন, ভারতের আঞ্চলিক চলচ্চিত্রশিল্প যদি এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না? তার মতে, কবিরপুরে ফিল্ম সিটির জন্য বরাদ্দ থাকা বিশাল জায়গা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা প্রয়োজন। এ জন্য আট-দশজনের একটি প্রতিনিধিদল গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।বর্ষীয়ান নির্মাতা মতিন রহমান চলচ্চিত্রে সৃজনশীল পরিচালক ও চিত্রনাট্যকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও স্ক্রিপ্ট রাইটার প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক, সব ধরনের সিনেমা নির্মাণ করতে হবে। শুধু বেশি বাজেটের নয়, স্বল্প ও মাঝারি বাজেটের সিনেমাও বানাতে হবে।তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, পুরো ইকোসিস্টেম নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রেক্ষাগৃহের সংকট মোকাবিলায় শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোকে সিনেমা প্রদর্শনের উপযোগী করে তোলার পরামর্শও দেন এই নির্মাতা। তার মতে, এসব জায়গায় স্বল্প খরচে সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করা গেলে দর্শকদের কাছে চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ বাড়বে।চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ভালো সিনেমা তৈরি হলে ভালো প্রেক্ষাগৃহ গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।অন্যদিকে, নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলু মনে করেন, এক-দুজন তারকার ওপর নির্ভর করে চলচ্চিত্রশিল্পকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, আগে ১৫ থেকে ২০ জন নায়ক-নায়িকা নিয়মিত কাজ করতেন। এখন এক-দুজন শিল্পীকে কেন্দ্র করে ১৫-২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিনেমা নির্মাণ করে পুরো শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন।ভার্সেটাইল মিডিয়ার কর্ণধার প্রযোজক আরশাদ আদনান বলেন, ভালো সিনেমা নির্মাণের জন্য প্রযোজকদের পাশাপাশি হলমালিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। প্রযোজক ও প্রদর্শকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।‘প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’ সিনেমার এই প্রযোজক আরও বলেন, সৃজনশীলতার ঘাটতিতে নতুন পরিচালক ও শিল্পী তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তার মতে, বিনিয়োগ ও করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে চলচ্চিত্রে অর্থের উৎস নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। তাছাড়া আমাদের যেসব নীতিমাল রয়েছে সেগুলোতে যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে।আলফা আইয়ের কর্ণধার শাহরিয়ার শাকিল চলচ্চিত্রের জন্য কার্যকর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, একটি সিনেমার আয়ের জন্য শুধু প্রেক্ষাগৃহের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস তৈরি করতে হবে। কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা গেলে নতুন সিনেমাও তৈরি ও হল তৈরির পথও সহজ হবে।স্টার সিনেপ্লেক্সের সঙ্গে আয় ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। শাহরিয়ার শাকিল জানান, আগে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে প্রযোজকরা ১৭ থেকে ১৮ শতাংশের বেশি শেয়ার পেতেন না। পরে কয়েকজন মিলে আলোচনা করে প্রথম দুই সপ্তাহের জন্য সেই হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একসঙ্গে আলোচনায় বসলে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব।নির্মাতা অমিতাভ রেজা সরকারি অনুদান ধাপে ধাপে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তার মতে, প্রথমে চিত্রনাট্য উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ, এরপর নির্মাণ ও পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য অর্থায়ন করা উচিত। পাশাপাশি এফডিসি আধুনিকায়ন, পাঁচটি বিভাগীয় শহরে স্টুডিও স্থাপন এবং চিত্রনাট্য উন্নয়নে স্ক্রিপ্ট ল্যাব গড়ার পরামর্শ দেন তিনি।চিত্রনাট্যকারের সংকটের কথা তুলে ধরে নির্মাতা হিমেল আশরাফ বলেন, চলচ্চিত্রের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর অভিনেতা ও নির্মাতা শাহরিয়ার নাজিম জয় মনে করেন, দর্শকের চাহিদা বুঝে সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি নতুন তারকা তৈরিতে বিনিয়োগ ও ঝুঁকি নেওয়া জরুরি। সবকিছুর জন্য সরকারের ওপর নির্ভর করলেও চলবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বাংলাদেশের সিনেমাকে অ্যামাজন ও নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। চলচ্চিত্র সাংবাদিক সৈকত সালাউদ্দিন বক্স অফিসের নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।সেমিনারে কাজী হায়াৎ অতীতের প্রেক্ষাগৃহে আয় ভাগাভাগির ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমে চলচ্চিত্রের সমালোচনার প্রভাব নিয়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, টেজাব সভাপতি নাজমুল আলম রানা চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয়ের অভাবকে সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।আলোচনায় উঠে আসে, দেশীয় চলচ্চিত্রের সংকট কাটাতে মানসম্পন্ন চিত্রনাট্য, স্বচ্ছ বিনিয়োগ, কার্যকর নীতিমালা, বিকল্প প্রদর্শনব্যবস্থা এবং নতুন বাজার তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রযোজক পরিচালক মো. ইকবাল, পরিচালক জাকির হোসেন রাজু ও ছটকু আহমেদসহ অনেকে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, নেই মুশফিক

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, নেই মুশফিক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ম্যাচটি। তবে আঙুলের চোটের কারণে একাদশে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের।মঙ্গলবার অনুশীলনের সময় আঙুলে চোট পান মুশফিক। নেটে বল ছোড়ার সময় একটি বল তাঁর আঙুলে আঘাত করে। ব্যথা পেয়ে তর্জনীতে টেপ পেঁচিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান তিনি। এরপর আর ব্যাটিং অনুশীলনে ফেরেননি এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।এর আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছিলেন, মুশফিকের না খেলার কোনো কারণ নেই। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছাড়াই প্রথম টেস্টের একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ।মুশফিকের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। এদিকে চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন লিটন দাস।এই ম্যাচে তিন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম ইসলামকে নিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। তাঁদের সঙ্গে পেস বিভাগে রয়েছেন হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম।দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে নিজেদের মাঠে ভালো শুরুর লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম।

আগামী অর্থবছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের চেহারা বদলানোর লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী অর্থবছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের চেহারা বদলানোর লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী অর্থবছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতের চেহারা বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, ক্যানসার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত ‘মেডিকেল ফিজিক্স কার্যক্রমের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থেকে প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করতে যাচ্ছি।’ এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগের কমিউনিটি ক্লিনিককে আমরা হেলথ ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তরিত করব।’ প্রাথমিক পর্যায়ে নারী-পুরুষের রোগের ইতিহাস, জন্ম, ওজন, উচ্চ রক্তচাপসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য নথিভুক্ত করে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‌‘আগামী অর্থবছরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতের চেহারা পরিবর্তন হবে, ইনশা আল্লাহ।’ক্যানসার চিকিৎসায় ১৭টি যন্ত্র আনার উদ্যোগদেশে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে ১৭টি লিনিয়ার অ্যাকসিলারেটর বা রেডিওথেরাপি যন্ত্র আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব যন্ত্র স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ কক্ষ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরে আরও কক্ষ নির্মাণ করা হবে।তিনি বলেন, আট বিভাগে রেডিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।রেডিওথেরাপি যন্ত্র পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ কাজে মেডিকেল ফিজিসিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রেডিওথেরাপিতে বিকিরণের মাত্রা নির্ধারণে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। মাত্রা নির্ধারণে ভুল হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে এবং চিকিৎসকের পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।মেডিকেল ফিজিসিস্ট নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় জনবলের সংখ্যা নির্ধারণ করে দ্রুত চিঠি প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। চিঠিটি প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রশিক্ষণ ও রোবোটিক অস্ত্রোপচারে গুরুত্বস্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রেডিওথেরাপি যন্ত্রের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলও নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিবিদ ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন ইউনিটে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে নার্সদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।এ ছাড়া প্রথমবারের মতো দেশে পাঁচটি রোবোটিক অস্ত্রোপচারের যন্ত্র আনা হবে বলেও জানান তিনি।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স কার্যক্রমের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবায় এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ মেডিকেল ফিজিসিস্ট তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যোগে সরকার সহযোগিতা করবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অনলাইন জরিপ
২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
ব্যাটারিচালিত রিকশা কোন সড়কে চলবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার। আপনিও কি তাই মনে করেন?

ব্যাটারিচালিত রিকশা কোন সড়কে চলবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার। আপনিও কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন