জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ মিলে যাওয়ায় সূচিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নিয়ে কমিশনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।ইসি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের প্রাথমিক সূচিতে দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গণিত পরীক্ষা এবং ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পড়েছে।ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়।জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে ১৩ ডিসেম্বর ভোট হলে একই সময়ে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে পরীক্ষার সময় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।অন্যদিকে ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ওইদিন বিভিন্ন কর্মসূচি থাকায় ইউপি নির্বাচনের ভোট আয়োজন নিয়েও নতুন করে ভাবছে কমিশন।এ পরিস্থিতিতে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সভায় পাওয়া মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইসি।নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে পরে ইউপি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসবসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাত ধাপে ভোট আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।